সর্বশেষ সংবাদ

আইএসপিআর এর সিটিজেন চার্টার (প্রস্তাবিত)

পটভূমিঃ

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি দপ্তর। স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং আন্তঃবাহিনী সংস্থা সমূহের প্রচার ও জনসংযোগ কার্য সম্পাদনের জন্য ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশবলে এ পরিদপ্তরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন দপ্তরটির জনবল ছিল ৩৭ জন যার মধ্যে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ৮জন এবং অন্যান্য পদবীর কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ২৯ জন।

দপ্তরটির কর্মপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৭ সালে এর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়।। সরকার এ সময় দপ্তরটির জনবল ৫৬ জনে উন্নীত করে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা ছিল ৭জন, দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা ছিল ৭জন এবং অন্যান্য পদবীর কর্মচারী ছিল ৪২জন।

পুনরায় সরকার ১৯৮২ সালে  Chief Martial Law Administrator – এর সচিবালয় থেকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের জনবল হ্রাস করে এর সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেয় (এমএল কমিটি)। এ নির্দেশ অনুসারে ১৯৮৩ সালে উক্ত পরিদপ্তরের জনবল হ্রাস করে ৩৩ জনে নামিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে ৬ জন প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা, ৪ জন দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা এবং ২৩ জন অন্যান্য পদবীর কর্মচারী রয়েছে। তখন থেকে পরিদপ্তরটি সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করে আসছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বেসামরিক জনগনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার জন্য আইএসপিআর পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাধারন জনগনকে প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে প্রতিরক্ষা তথ্য সেবা প্রদান এ পরিদপ্তরের প্রধান উদ্দেশ্য। সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক উনণয়নের লক্ষ্যে আইএসপিআর কাজ করে যাচ্ছে।

সাংগঠনিক কাঠামোঃ

পরিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন পরিচালক। পরিদপ্তরের কাজের সুবিধার্থে এটিকে পাঁচটি শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলোঃ সেনাবাহিনী ডেস্ক, নৌবাহিনী ডেস্ক, বিমান বাহিনী ডেস্ক, প্রশাসন শাখা এবং গবেষণা ও প্রকাশনা শাখা। সেনাবাহিনী ডেস্কের তত্ত্বাবধানে আছেন একজন সহকারী পরিচালক। তার তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের প্রচার ও জনসংযোগ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। অনুরূপ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী ডেস্কের দায়িত্বে আছেন দুইজন সহকারী পরিচালক। প্রশাসন শাখার দায়িত্বেও আছেন একজন সহকারী পরিচালক। পরিদপ্তরের প্রশাসন, হিসাব ও বাজেট সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ-কর্ম তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। গবেষনা ও প্রকাশনা শাখার দায়িত্বে আছেন গবেষণা কর্মকর্তা। তিনি সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আন্তঃবাহিনী সংস্থার সকল বিজ্ঞাপন প্রকাশনা এবং পরিদপ্তরের সচিত্র মাসিক সাময়িকী ‘সেনানী’  প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

কার্যাবলীঃ

ক)    বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং আন্তঃবাহিনী সংস্থা সমূহের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দৈনন্দিন ক্রিয়াকর্মের  প্রচারণার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের একমাত্র সংস্থা হিসেবে কাজ করা।
খ)    তিন বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রচারণা কাজের সমন্বয় এবং সংবাদ, মন্তব্য, আলোকচিত্র, ভিডিও চিত্র এবং বিজ্ঞাপন সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণের একমাত্র সংস্থা হিসেবে কাজ করা।
গ)    বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আন্তঃবাহিনী সংস্থার জন্য ঘরোয়া সাময়িকী প্রকাশ করা।
ঘ)    গণমাধ্যমে প্রচার/প্রকাশের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের লেখা কোন প্রবন্ধ/নিবন্ধ ইত্যাদি বাছাই শেষে প্রকাশের ছাড়পত্র প্রদান।
ঙ)    সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবেশিত কোন অনুষ্ঠান বেতার ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশের সমন্বয় সাধন করা।
চ)    সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির সহায়ক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।
ছ)    সশস্ত্র বাহিনীর ক্রিয়াকর্ম সংক্রান্ত প্রেস ক্লিপিং সংরক্ষণ।
জ)    বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করা এবং দেশীয় গণমাধ্যমে  প্রকাশিত/প্রচারিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত খবরাখবর মনিটর করা এবং প্রয়োজনবোধে    প্রতিবাদলিপি/সংশোধনী জারি করা।
ঝ)    প্রয়োজন দেখা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ হতে মনস্তাত্বিক প্রচারাভিযান (Psychological Warfare) – এর উদ্যোগ গ্রহণ করা।