সর্বশেষ সংবাদ

ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের রিক্রুট ব্যাচ ২০১৮-২ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০১৮ ঃ ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার এন্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং এর রিক্রুট ব্যাচ ২০১৮-২ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ বুধবার (২৮-১-২০১৮) নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়।

লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল মোঃ নাজিম উদ্দীন, পিএসসি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রিক্রুট ব্যাচ ২০১৮-২ এর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন ।

উল্লেখ, দীর্ঘ ৪৫ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মোট ৭০৭ জন রিক্রুট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। প্রধান অতিথি মহোদয় এই শুভ দিনে সশ্রদ্ধচিত্তে বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স¥রণ করেন। সেই সাথে আরও স¥রণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদেরকে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশ মুক্ত ও স্বাধীনু

উক্ত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার এন্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ট্রেনিং ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এবং সেনাসদর ও এরিয়া সদর দপ্তর, বগুড়া হতে আগত অফিসারবৃন্দ, বিভিন্ন সেন্টার থেকে আগত কমান্ড্যান্টবৃন্দ/ কম্যান্ড্যান্টবৃন্দের প্রতিনিধিগণ, কাদিরাবাদ ষ্টেশনের সকল অফিসার্স, জেসিও’স অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্যবৃন্দ, অসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রিক্রুট ব্যাচ ২০১৮-২ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শপথ গ্রহণকারী রিক্রুটদের উদ্দেশ্যে সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সদর দপ্তর আর্টডকের নীতিমালা ও দিক নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে এসএসসি পাশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ ০১ বছরের পাশাপাশি এইচএসসি পাশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ ৬ মাস মেয়াদি করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি বলেন রিক্রুট প্রশিক্ষণকে আরও উন্নত, যুগোপযোগী ও অর্থবহ করার জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিমধ্যে যুগান্তকারী অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃংখলা, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষায় এবং দেশ গঠনের গুরু দায়িত্ব সকল নবীন সৈনিকদেরকে পালন করার জন্য তিনি উপদেশ প্রদান করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক উন্নয়নের কারণে ইঞ্জিনিয়ার কোরের যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ের দায়িত্ব অতীতের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। “সদা সর্বত্র” এই মূলমন্ত্রের দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে অতীতে স্যাপার’রা যেমন সম্মান ও গৌরবময় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে পেরেছে, তেমনিভাবে আগামী দিনগুলোতেও এই কর্মক্ষেত্রের বিস্তার ঘটিয়ে এবং নিজেদেরকে যোগ্যতর করে তুলে সেনাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভুমিকা রাখার নিমিত্তে সকলকে বদ্ধপরিকর থাকার জন্য তিনি উপদেশ প্রদান করেন। সেই সাথে তিনি নবীন সৈনিকদের যে কোন প্রয়োজনে এবং দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের জান, মাল ও সম্মান রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার জন্য পরামর্শ দেন। সবশেষে তিনি প্রাণ প্রিয় এই বাংলাদেশের কারিগর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ অগণিত বীর শহীদগণ যাঁদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই স্বাধীন বাংলাদেশ, তাদের সশ্রদ্ধচিত্তে স¥রণের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।