সর্বশেষ সংবাদ

জাতির পিতার নামে প্রথমবারের মত নৌঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ মুজিব’ এর কমিশনিং, তিন নৌঅঞ্চলে একযোগে ২২টি বহুতল ভবন উদ্বোধন ও বিএন হাউজিং প্রজেক্টের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা, ০৫ নভেম্বর ২০১৮ ঃ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকায় জাতির পিতার নামে প্রথমবারের মত নৌঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ মুজিব’ এর কমিশনিং করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিন নৌঅঞ্চলে একযোগে ২২টি বহুতল ভবন উদ্বোধন ও সাভারে বিএন হাউজিং প্রজেক্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষে আজ সোমবার (০৫-১১-২০১৮) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘাঁটির অধিনায়কের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং বহুতল ভবনসমূহের নামফলক উন্মোচন করেন। অত:পর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিন নৌ অঞ্চলের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারবর্গের সাথে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “Bangladesh Navy in the 21st Century” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং সেখানে ওয়ার্ডরুমের পাশে একটি গাছের চারা রোপন করেন।

বানৌজা শেখ মুজিব ঢাকা নৌঅঞ্চলে জনকল্যাণে বিশেষ করে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলাসহ ডাইভিং ও স্যালভেজ কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনে সক্ষম হবে। এছাড়া, এই ঘাঁটি নৌ তথ্য প্রযুক্তি কার্যক্রম পরিচালনা, নৌ গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নৌবাহিনীর সকলস্তরের নৌ সদস্যদের সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অত্যন্ত অল্প সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলে ২২টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত তিনটি একাডেমিক ভবন যেখানে প্রতি বছরে প্রায় ৭০০০ নৌ সদস্যকে আধুনিক পরিবেশে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চলের ঘাঁটিসমূহে আভ্যন্তরীণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে দু’টি প্রশাসনিক ভবন ও মাল্টিপারপাস হল। আবাসন সংকট দূর করতে নৌ কর্মকর্তা, নাবিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৭টি বহুতল ভবন। যেখানে ১৪৩ জন কর্মকর্তাসহ ৬৬৪ জন জেসিও ও ৪৩২ জন অন্যান্য পদবীর নাবিক ও ৩২০ জন বেসামরিক কর্মচারী স্বপরিবারে বসবাসের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে দেড় হাজারেরও বেশি নৌ পরিবারের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, প্রায় চার হাজার নাবিকের বসবাসের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌঅঞ্চলে নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের তিনটি নাবিক ব্যারাক। এছাড়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত নৌ সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে বিএন হাউজিং প্রজেক্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আধুনিক দৃষ্টিনন্দন এ প্রকল্পটিতে ১০টি ২৭তলা এবং ১২টি ২৬তলা বিশিষ্ট আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা হবে। একইসাথে প্রকল্পের অভ্যন্তরে অন্তর্ভুক্ত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, লেডিস ক্লাব, অত্যাধুনিক শপিং মল, হোটেল, গাড়ি পার্কিংসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতেই নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমূখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছে। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক আগ্রহে নৌবহরে সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নৌবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, গড়ে তোলা হয়েছে হেলিকপ্টার ও টহল বিমান সমৃদ্ধ নেভাল এভিয়েশন এবং বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াড্স। সমুদ্রে নজরদারী ও টহল জোরদার করতে অত্যাধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফ্ট ও হেলিকপ্টারসহ আরোও অনেক যুদ্ধজাহাজ এবং সরঞ্জামাদি ক্রয় ও নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বোপরি নৌ সদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় স্থাপনাসহ নানাবিধ উন্নয়মূলক কর্মকান্ড গ্রহণ করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, নৌবাহিনী দেশের সার্বিক উন্নয়নে এবং আর্তমানবতার সেবায় বছরজুড়ে সারাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন লঞ্চডুবি, নৌকাডুবি ও সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জানমালের উদ্ধারে নৌবাহিনীর দক্ষ ডাইভিং ও স্যালভেজ টিম প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে বর্তমানে বিশ্বের স্থলভাগ সীমিত হয়ে পড়ায় সারা বিশ্বের নজর এখন সমুদ্রের দিকে। বর্তমান সরকারের গৃহীত সমুদ্রের Blue Economy সংক্রান্ত প্রকল্পসমূহ হতে সুফল পাওয়া শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে সম্প্রতি এলএনজি গ্যাস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক কারখানাতেই ইতিমধ্যে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। আর এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে সমুদ্রসীমায় নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানের ফলে। তিনি আরও বলেন,————————– (ভাষণের কপি সংযুক্ত)———-।

এর আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘বানৌজা শেখ মুজিব’ নৌ ঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং নৌ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ঢাকা তাঁকে স্বাগত জানান। এছাড়া, অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনা বাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।