সর্বশেষ সংবাদ

‘‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’’- শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ঃ ব্লু ইকোনমি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ (Maritime Good Governance towards Sustainable Development)– প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) এর আয়োজনে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক সেমিনার আজ সোমবার (১৯-১১-২০১৮) ঢাকাস্থ হোটেল রেডিসন ব্লু-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ সিদ্দিক (Tarique Ahmed Siddique) । এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ (Nizamuddin Ahmed)।

দিনব্যাপী এ সেমিনারে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব (অবঃ) রিয়ার এডমিরাল Md Khurshed Alam ও (অবঃ) নৌ কর্মকর্তা রিয়ার এডমিরাল A S M A Awal, সাবেক ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান Admiral RK Dhowan, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন (অবঃ) Richard Francis Sears, মালয়েশিয়ার মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের Cheryl Rita Kaur, শ্রীলঙ্কার পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের পরিচালক এডমিরাল প্রফেসর Jayanath Colombage, PhD (retd.) মেরিটাইম বিষয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জনাব ফারুক সোবহান (Farooq Sobhan) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ (Imtiaz Ahmed) মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মেরিটাইম ক্ষেত্রে পারষ্পরিক তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বিমরাড-এর সাথে ভারতের NATIONAL MARITIME FOUNDATION (NMF), যুক্তরাষ্ট্রের DANIEL K. INOUYE ASIA-PACIFIC CENTER FOR SECURITY STUDIES (DKI APCSS) এবং শ্রীলংকার THE PATHFINDER FOUNDATION (PF) এর সাথে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।

সেমিনারে সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার, সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ ও
জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞগণ সমুদ্র সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। পৃথিবীর ৭১ শতাংশ দ্বারা আচ্ছাদিত সমুদ্র যুগে যুগে মানবসভ্যতা, সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবসর যাপনের প্রধান কেন্দ্র বিন্দু। এটি ইকো সিস্টেম ও জীবমন্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের অক্সিজেন, খাদ্য, পানীয়, শক্তি, কাঁচামাল ঔষধ এমনকি বিনোদন ও সংস্কৃতির যোগান দেয়। তাছাড়া, জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং ভূমি ভিত্তিক সম্পদ হ্রাসের সাথে সাথে সমুদ্রই হয়ে উঠেছে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান আশ্রয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমুদ্র সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবণ করে ১৯৭৪ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার এন্ড মেরিটাইম জোনস এ্যাক্ট প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতির বিশাল সম্ভবনার দুয়ারকে উন্মোচিত করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে দেশ এখন দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে বলে আশা করা যায়। এই লক্ষ্য অর্জনে সমুদ্র অর্থনীতির উপর গুরুত্ব আরোপের কোন বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশসমূহের একযোগে কাজ করা জরুরী। এজন্য দক্ষ নেতৃত্ব, পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।

বিমরাড এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নৌবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক আগ্রহে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল সমুদ্র এলাকা। এই সমুদ্র মৎস ও খনিজসহ বিভিন্ন সম্পদে পরিপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এই সম্পদকে কাজে লাগানোর কোন বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, এই সেমিনারে বিভিন্ন মেরিটাইম বিশেষজ্ঞদের তাত্ত্বিক জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা টেকসই উন্নয়নে সমুদ্র নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণের পথকে আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি এই সেমিনার সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করে তা থেকে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান অর্জনের পথকে প্রশস্ত করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সেবাধর্মী ও অলাভজনক সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত ০৩ জুলাই ২০১৮ তারিখে যাত্রা শুরু করে। দেশের সমুদ্র সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী এবং সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি), সমুদ্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তাসহ সামুদ্রিক সকল বিষয়ে গবেষণামূলক কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সুপারিশ প্রণয়ন প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। এছাড়া, সমুদ্র বিষয়ে দেশের তরুণ সমাজকে সচেতন এবং আকৃষ্ট করাও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।