মঙ্গলবার, ২১শে জানুয়ারি ২০২০ ইং; ৮ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জমাদিউল-আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Home হোম সেনা বাহিনী প্রধান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় বীর যোদ্ধা ও যুদ্ধ পরবর্তী সহায়তাকারী রাশিয়ার নৌসদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
REL - 18

সেনা বাহিনী প্রধান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় বীর যোদ্ধা ও যুদ্ধ পরবর্তী সহায়তাকারী রাশিয়ার নৌসদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

226
0

ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ঃ- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি এর সাথে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনাসদরে, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেন এর সাথে নৌসদর দপ্তর, সাগরিকা হলে এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি এর সাথে তেজগাঁওস্থ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন বীর যোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী কর্ণফুলী চ্যানেলে মাইন অপসারনে সহায়তাকারী রাশিয়ার ০৫ জন নৌ সদস্য আজ মঙ্গলবার (১৭-১২-২০১৯) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সেনাবাহিনী
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি এর সাথে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন বীর যোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী কর্ণফুলী চ্যানেলে মাইন অপসারনে সহায়তাকারী রাশিয়ার ০৫ জন নৌ সদস্যগণ আজ মঙ্গলবার (১৭-১২-২০১৯) সেনাসদরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময়ের পর সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী তাঁদের অবদান অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভরে স¥রণ করেন এবং তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, (…………….. ভাষণের কপি সংযুক্ত) । পরে তিনি তাঁদেরকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, আজ সকালে সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে সাক্ষাতের পূর্বে তাঁরা ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সহায়তা প্রদানকারী ০৫ জনসহ ০৬ সদস্যের রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধিদল গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২৬ জন বীর যোদ্ধাসহ ৫৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আগমন করেন। প্রতিনিধি দল দুটি গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, প্রতিনিধি দল দুটি আজ নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনীর ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেড, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে টাঙ্গাইলের প্যারাড্রপিং সাইট পরিদর্শনসহ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে প্রতিনিধিদল দুটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

নৌবাহিনী
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় এবং রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনী (খরনবৎধঃরড়হ ডধৎ ঠবঃবৎধহং) এর ৩১ জন বীর যোদ্ধা আজ মঙ্গলবার (১৭-১২-২০১৯) ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বনানীস্থ নৌ সদর দপ্তর, সাগরিকা হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন লেঃ জেনারেল রাজেন্দ্র সিং কাদিয়ান (অবঃ) (খঃ এবহ জধলবহফৎধ ঝরহময কধফুধহ) এবং রাশিয়ান দলের নেতৃত্ব দেন ভাসিলি মিহাইলোভিচ সিলিয়েভ (ঠধংরষরর গরযধুষড়ারপয ঝযরষরধবা)। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারত ও রাশিয়ার ডিফেন্স এ্যাটাশে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নৌ সদরের উধর্¡তন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতকালে নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনে ভারত এবং রাশিয়া তথা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বলিষ্ঠ ভুমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স¥রণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনগণ যে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই মহান স্বাধীনতা অর্জনে ভারত এবং রাশিয়া বিশ্বস্ততম বন্ধু হিসেবে আমাদের সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে পরিচালিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’কে সাফল্যমন্ডিত করতে তিনি ভারতের অবিস¥রণীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নৌ কমান্ডোদের গেরিলা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জামাদির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ও অপ্রতিরোধ্য হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া নৌপ্রধান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেলে মাইন অপসারণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে জাহাজ চলাচল ও বিপদমুক্ত রাখতে রাশিয়ার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স¥রণ করেন। তিনি দু’দেশের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভারত ও রাশিয়া নৌবাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে ভারতীয় ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলটি শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সফরের অংশ হিসেবে উক্ত প্রতিনিধি দলটি বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসে¤¦র জাতীয় স¥ৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ জাতীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। পরে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গবভনে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তাছাড়া ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলটি কাল চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, ছয়দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ভারত এবং রাশিয়ার উক্ত প্রতিনিধি দলটি আগামী ১৯ ডিসে¤¦র দেশে ফিরে যাবে বলে আশা করা যায়।

বিমান বাহিনী
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারত ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ৩১ জন বীর যোদ্ধাদের প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার (১৭-১২-২০১৯) বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসিএর সাথে সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) রাজেন্দ্র সিং কাদিয়ান, পিভিএসএম, এভিএসএম, ভিএসএম।

সাক্ষাত কালে তারা পারস্পারিক কুশল বিনিময় করেন এবং কিছু সময় অতিবাহিত করেন। বিমান বাহিনী প্রধান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন। এ সময় বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণসহ অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিনিধি দলটি বিজয় দিবস-২০১৯ উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে এক রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আগমন করেন। সফরকালে তারা বিজয় দিবস-২০১৯ উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। প্রতিনিধি দলটির এই সফর দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান সহযোগিতামূলক এবং ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরো সু সংহত করবে বলে আশা করা যায়।

 

(226)

Close